১. IFRS কী?

1. What is IFRS?

IFRS (International Financial Reporting Standards) হলো একটা আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং নিয়মের সেট, যা নির্ধারণ করে দেয় — একটা কোম্পানির আর্থিক লেনদেন কীভাবে রেকর্ড করতে হবে, কীভাবে পরিমাপ করতে হবে, এবং কীভাবে তা ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে বিশ্বের যেকোনো দেশের একজন পাঠক সেই তথ্য একই ভাষায় বুঝতে পারেন।

সহজ কথায় বললে — ধরুন, ইংরেজি ভাষা যেমন সারা পৃথিবীতে ব্যবসা-বাণিজ্যের একটা “কমন ভাষা” হিসেবে কাজ করে, IFRS ঠিক তেমনি আর্থিক প্রতিবেদনের জন্য একটা “কমন ভাষা”। একটা জাপানি ব্যাংক যদি বাংলাদেশের একটা কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট পড়ে, আর সেটা যদি IFRS অনুযায়ী তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে জাপানি ব্যাংকার নিজের দেশের কোম্পানির স্টেটমেন্টের সাথে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন — কারণ উভয় ক্ষেত্রেই একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখা দরকার — IFRS হলো নীতিভিত্তিক (Principles-based), নিয়মভিত্তিক (Rules-based) নয়। অর্থাৎ এটা প্রতিটা পরিস্থিতির জন্য কোনো নির্দিষ্ট গাণিতিক সূত্র দেয় না, বরং একটা নীতি বা মূলনীতি দেয়, যা প্রয়োগ করার সময় হিসাবরক্ষক ও নিরীক্ষকের বিচক্ষণতা (professional judgment) ব্যবহার করতে হয়। এই পার্থক্যটা মনে রাখা জরুরি, কারণ পরবর্তী প্রায় প্রতিটা স্ট্যান্ডার্ড আলোচনায় এই ধারণাটা ফিরে ফিরে আসবে।

২. IFRS কারা তৈরি করে? (IASB কী, এর গঠন কেমন?)

2. Who formulates IFRS? (What is the IASB, and how is it structured?)

IFRS তৈরি করে IASB (International Accounting Standards Board) — লন্ডনভিত্তিক একটি স্বাধীন, বেসরকারি মান-নির্ধারক সংস্থা। এটি IFRS Foundation-এর অধীনে পরিচালিত হয়, যা একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।

এখানে একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা জরুরি। ১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই কাজটা করত IASC (International Accounting Standards Committee), যারা যে স্ট্যান্ডার্ডগুলো প্রকাশ করত সেগুলোর নাম ছিল IAS (International Accounting Standards)। ২০০১ সালে IASC পুনর্গঠিত হয়ে IASB নাম ধারণ করে, এবং তখন থেকে নতুন স্ট্যান্ডার্ডগুলো IFRS নামে প্রকাশিত হতে থাকে। এই কারণেই আজও দুইটা নাম পাশাপাশি চলে — পুরনো, এখনো বলবৎ থাকা স্ট্যান্ডার্ডগুলোকে বলা হয় IAS (যেমন IAS 2, IAS 16), আর নতুন করে প্রণীত স্ট্যান্ডার্ডগুলোকে বলা হয় IFRS (যেমন IFRS 15, IFRS 16)। দুটোই সমানভাবে বাধ্যতামূলক ও কার্যকর — শুধু প্রকাশকালের ভিত্তিতে নামের পার্থক্য।

IASB-এর তৈরি IFRS বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রতিবেদনের জন্য একটি সাধারণ কাঠামো তৈরি করে, যা বিভিন্ন এখতিয়ারের মধ্যে তুলনাযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। IASB-তে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ অ্যাকাউন্টিং পেশাজীবী, প্রাক্তন নিয়ন্ত্রক ও একাডেমিশিয়ানরা বোর্ড মেম্বার হিসেবে থাকেন, যারা নতুন স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন বা বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড সংশোধনের আগে বিশ্বব্যাপী স্টেকহোল্ডারদের (কোম্পানি, নিরীক্ষক, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা) মতামত নেওয়ার একটা দীর্ঘ পরামর্শমূলক প্রক্রিয়া (due process) অনুসরণ করেন।

৩. IFRS তৈরির আগে অ্যাকাউন্টিং জগতে কী সমস্যা ছিল?

3. What problems existed in the accounting world before IFRS?

এই প্রশ্নটা না বুঝলে “কেন IFRS দরকার” প্রশ্নের উত্তরটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। IFRS চালু হওয়ার আগে পৃথিবীর প্রতিটা দেশের নিজস্ব জাতীয় অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড ছিল — যুক্তরাষ্ট্রে US GAAP, যুক্তরাজ্যে UK GAAP, জার্মানিতে জার্মান GAAP, এবং এরকম প্রতিটা দেশে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম।

এতে তিনটা বড় সমস্যা তৈরি হতো:

•     তুলনার অসম্ভবতা: একটা আমেরিকান বিনিয়োগকারী যদি জার্মানির একটা কোম্পানির শেয়ার কিনতে চাইতেন, তাহলে তাকে দুই দেশের ভিন্ন অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতির পার্থক্য বুঝে তারপর তুলনা করতে হতো — যা প্রায় অসম্ভব একটা কাজ ছিল।

•     বহুজাতিক কোম্পানির বোঝা: একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিকে যদি ২০টা দেশে ব্যবসা করতে হয়, তাহলে তাকে প্রতিটা দেশের জন্য আলাদা আলাদা নিয়মে ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে হতো — সময়, খরচ ও জটিলতা সবই বহুগুণ বেড়ে যেত।

•     আস্থার সংকট: একই ধরনের লেনদেন বিভিন্ন দেশে ভিন্নভাবে রিপোর্ট হওয়ায়, আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থার ঘাটতি তৈরি হতো — যা বিশেষভাবে প্রকট হয়ে ওঠে বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির সময়, যখন দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতির ফাঁকফোকর ব্যবহার করে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আড়াল করা সম্ভব হচ্ছে।

এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যই ধীরে ধীরে একটা “একক বৈশ্বিক ভাষা”র প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়, যার ফলাফল হলো আজকের IFRS। বর্তমানে বিশ্বের ১৪০টির বেশি এখতিয়ার (jurisdiction) কোনো না কোনোভাবে IFRS গ্রহণ করেছে বা করার পথে আছে।

৪. আমাদের কেন IFRS শিখতে হবে?

4. Why do we need to learn IFRS?

এখানে প্রশ্নটাকে দুইভাবে দেখা দরকার — একজন প্রফেশনাল হিসেবে ব্যক্তিগত প্রয়োজন, এবং একজন কর্মী/উদ্যোক্তা হিসেবে পেশাগত প্রয়োজন।

ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের দিক থেকে: আজকের চাকরির বাজারে একজন ফাইন্যান্স বা অ্যাকাউন্টিং প্রফেশনালকে নিয়োগকারীরা যাচাই করেন তার IFRS-ভিত্তিক বাস্তব প্রয়োগ ক্ষমতা দিয়ে — শুধু ডিগ্রি সার্টিফিকেট দিয়ে নয়। একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, একটা ব্যাংক, একটা অডিট ফার্ম, বা একটা লিস্টেড কোম্পানির ফাইন্যান্স টিমে কাজ করতে হলে IFRS-এর প্র্যাক্টিক্যাল জ্ঞান ছাড়া এগোনো কার্যত অসম্ভব।

পেশাগত দায়িত্বের দিক থেকে: যদি আপনি অডিটর হন, তাহলে ক্লায়েন্টের স্টেটমেন্ট IFRS মেনে তৈরি হয়েছে কিনা তা যাচাই করাই আপনার কাজের মূল ভিত্তি। যদি আপনি একজন CFO বা ফাইন্যান্স ম্যানেজার হন, তাহলে আপনার তৈরি করা স্টেটমেন্ট বিনিয়োগকারী, ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার পূর্বশর্তই হলো IFRS-সম্মতি। আর যদি আপনি একজন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হন — একজন উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী — তাহলে অন্য কোম্পানির স্টেটমেন্ট সঠিকভাবে পড়তে ও বুঝতে পারার জন্যও IFRS-এর মৌলিক জ্ঞান অপরিহার্য।

৫. বাংলাদেশে কেন IFRS অনুসরণ করতে হয়?

5. Why is IFRS mandatory to follow in Bangladesh?

এটা শুধু একটা “ভালো প্র্যাকটিস” নয় — বাংলাদেশে এর পেছনে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো আছে।

২০১৫ সালের Financial Reporting Act-এর অধীনে গঠিত Financial Reporting Council (FRC) বাংলাদেশে অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। এই আইনের ৪০(১)(ক) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, কাউন্সিল পাবলিক ইন্টারেস্ট এনটিটিগুলোর জন্য পেশাগত অ্যাকাউন্টিং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে IASB কর্তৃক প্রণীত আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক প্রতিবেদন মান নির্ধারণ ও জারি করবে।

এছাড়াও একাধিক খাতভিত্তিক আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা পৃথকভাবে IFRS অনুসরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে:

•     বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (BSEC) ১৯৮৭ সালের বিধিমালা অনুযায়ী সকল তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে পূর্ণ IFRS প্রয়োগ করতে হয়।

•     বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA) বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য একই বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে।

•     বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন আইন ও প্রবিধানের আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে গৃহীত IFRS প্রয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছে।

•     ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী সকল কোম্পানির জন্য আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক, এবং কেবলমাত্র ICAB-এর প্র্যাকটিসিং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরাই এই নিরীক্ষা করার অনুমোদনপ্রাপ্ত।

তাহলে সংক্ষেপে বলা যায় — বাংলাদেশে IFRS অনুসরণ কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, এটা একাধিক স্তরের আইন ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনার মধ্য দিয়ে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, বিশেষ করে তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির জন্য।

৬. IFRS কি বাংলাদেশে সরাসরি প্রযোজ্য, নাকি স্থানীয়ভাবে রূপান্তরিত হয়ে? (BFRS-এর ভূমিকা)

6. Is IFRS directly applicable in Bangladesh, or is it adopted locally (as BFRS)?

এই প্রশ্নের উত্তর অনেকের কাছেই অস্পষ্ট থাকে, এবং এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিষয়ও আছে যা অনেকেই জানেন না। বাস্তবতা হলো — বাংলাদেশে IFRS সরাসরি “IFRS” নামে প্রয়োগ হয় না, বরং স্থানীয়ভাবে গ্রহণ (adopt) করে একটা নিজস্ব নামে প্রকাশ করা হয়, যার নাম BFRS (Bangladesh Financial Reporting Standards)।

তবে এখানে “কে গ্রহণ করে” প্রশ্নের উত্তরটা সময়ের সাথে বদলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ICAB (Institute of Chartered Accountants of Bangladesh)-ই ছিল বাংলাদেশে IFRS গ্রহণ ও BFRS নামে প্রকাশের একক দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। কিন্তু ২০১৫ সালে Financial Reporting Act (FRA 2015) পাস হওয়ার পর, এবং ২০১৭ সালে এই আইনের অধীনে Financial Reporting Council (FRC) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার পর, হিসাবমান গ্রহণের আইনি ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্বটা এখন FRC-এর হাতে। FRA 2015-এর ৪০(১)(ক) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, IASB কর্তৃক প্রণীত আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক প্রতিবেদন মান নির্ধারণ ও জারি করার ক্ষমতা এখন FRC-এর।

এর মানে এই নয় যে ICAB-এর ভূমিকা শেষ হয়ে গেছে — বাস্তবে FRC-এর নতুন স্ট্যান্ডার্ড পর্যালোচনা ও গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ICAB-এর সাথে ঘনিষ্ঠ কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত আছে, এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ফুল IFRS বাস্তবায়নের রোডম্যাপ নিয়েও দুই সংস্থা একসাথে কাজ করছে। তবে পূর্বে ICAB যে “একক গ্রহণকারী” ভূমিকায় ছিল, সেই আনুষ্ঠানিক আইনি কর্তৃত্বটা এখন FRC-এর কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে।

সংক্ষেপে বললে — মূল কাঠামো ও নীতি একই থাকে (যেহেতু এটা মূলত IASB-এর প্রণীত স্ট্যান্ডার্ডেরই প্রতিফলন), তবে বাংলাদেশে এখন এই গ্রহণ প্রক্রিয়াটি FRC-চালিত, ICAB-এর কারিগরি সহযোগিতাসহ, আর তার ফলাফল হিসেবে যা প্রকাশিত হয় তার নাম BFRS।

এখানে একটা পুরনো শব্দও প্রায়ই শোনা যায় — BAS (Bangladesh Accounting Standards)। এটা ছিল পুরনো IAS-গুলোর বাংলাদেশ সংস্করণ, যা পরবর্তীতে হালনাগাদ হয়ে BFRS-এ রূপান্তরিত হয়েছে — অনেকটা যেভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে IAS থেকে IFRS-এ রূপান্তর হয়েছিল, ঠিক সেই একই ধরনের ঐতিহাসিক পরিবর্তন বাংলাদেশেও ঘটেছে।

তাছাড়া ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটা সরলীকৃত সংস্করণও আছে — BFRS for SMEs, যা IFRS for SMEs-এর ভিত্তিতে তৈরি। এই সরলীকৃত সংস্করণটি আরও নির্দিষ্ট মানদণ্ডের (আয়, সম্পদের পরিমাণ, কর্মীসংখ্যা ইত্যাদি) ভিত্তিতে কোন কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণের কাজও বর্তমানে FRC-এর অধীনে চলমান আছে।

৭. IFRS/BFRS মেনে না চললে বাংলাদেশে কী হয়?

7. What are the consequences of non-compliance with IFRS/BFRS in Bangladesh?

এটা নির্ভর করে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান, এবং কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে সে পড়ে, তার উপর।

•     তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে: BSEC-এর বিধি অনুযায়ী গৃহীত BAS/BFRS তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য। অর্থাৎ, না মানলে BSEC নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিতে পারে — যেমন সতর্কীকরণ, জরিমানা, শেয়ার লেনদেন স্থগিতাদেশ পর্যন্ত।

•     ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ফরম্যাট ও প্রকাশ বাধ্যবাধকতা না মানলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারে, যা একটা ব্যাংকের লাইসেন্স, সুনাম ও পরিচালন সক্ষমতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

•     নিরীক্ষার ক্ষেত্রে: একজন নিরীক্ষক যদি দেখেন কোনো প্রতিষ্ঠানের স্টেটমেন্ট BFRS মেনে তৈরি হয়নি, তাহলে তিনি একটা “Qualified” বা “Adverse Opinion” দিতে বাধ্য হন — যা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার, ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে একটা গুরুতর নেতিবাচক সংকেত।

•     অতালিকাভুক্ত সাধারণ কোম্পানির ক্ষেত্রে: আইন বা ICAB-এর বাই-লজে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য BAS/BFRS মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়, ফলে বাস্তবে এই ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাত্রা ব্যাপকভাবে ভিন্ন হয়ে থাকে।

তাহলে সংক্ষেপে বলা যায় — প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা ভিন্ন হলেও, যেসব ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে (তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান), সেখানে না মানার পরিণতি নিয়ন্ত্রক জরিমানা থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক সুনাম হারানো পর্যন্ত গড়াতে পারে।

সারসংক্ষেপ

আজকের পর্বে আমরা যা শিখলাম:

1. IFRS হলো একটা নীতিভিত্তিক আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং ভাষা, যা তুলনাযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

2. IASB এই স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন করে, যার পূর্বসূরি ছিল IASC (IAS-এর প্রণেতা)।

3. জাতীয় ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতির কারণে তৈরি হওয়া তুলনার অসম্ভবতা ও আস্থার সংকট থেকেই IFRS-এর জন্ম।

4. একজন ফাইন্যান্স/অ্যাকাউন্টিং প্রফেশনালের ক্যারিয়ার ও দায়িত্বপালনের জন্য IFRS জ্ঞান অপরিহার্য।

5. বাংলাদেশে FRA 2015, BSEC বিধি, Bank Company Act ও Companies Act 1994-এর মাধ্যমে IFRS/BFRS অনুসরণ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

6. বাংলাদেশে IFRS গ্রহণের আনুষ্ঠানিক আইনি দায়িত্ব এখন FRC-এর হাতে (FRA 2015-এর অধীনে, ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর), যদিও ICAB এখনও ঘনিষ্ঠ কারিগরি সহযোগী হিসেবে যুক্ত আছে — এবং এই যৌথ প্রক্রিয়ার ফলাফল প্রকাশিত হয় BFRS নামে।

7. না মানলে প্রতিষ্ঠানভেদে নিয়ন্ত্রক জরিমানা থেকে শুরু করে অডিট অপিনিয়নে নেতিবাচক প্রভাব পর্যন্ত বিভিন্ন পরিণতি হতে পারে।

 

পরবর্তী পর্বে আমরা যাব ভাগ খ (Part B)-এ — IFRS আর IAS-এর পার্থক্য, IFRIC ও SIC কী, Conceptual Framework-এর অবস্থান, এবং IFRS for SMEs কীভাবে একটা কোম্পানির আকার ও প্রকৃতির উপর নির্ভর করে প্রযোজ্য হয় — এই বিষয়গুলো নিয়ে।