কর ফাঁকি রোধ ও তথ্য যাচাইয়ে ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে আয়কর আইন, ২০২৩-এ একটি নতুন ক্ষমতা-সংক্রান্ত (enabling) ধারা যুক্ত করেছে জাতীয় সংসদ। অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে আয়কর আইনের ধারা ২০০-এর পরে নতুন সন্নিবেশিত হয়েছে ধারা ২০০ক: “ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সরবরাহের বাধ্যবাধকতা”

নতুন ধারায় ঠিক কী বলা হয়েছে

গেজেটের মূল ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ধারা ২০০ক-এর উপ-ধারা (১) বলছে —

“এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেকোনো কর্তৃপক্ষ, ব্যক্তি বা সত্তাকে তাহাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা যেকোনো শ্রেণির ব্যক্তির সম্পদ, দায়, আয়, ব্যয় এবং লেনদেন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে বোর্ড বা কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে প্রদান করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে।”

অর্থাৎ, এটি কোনো “সব প্রতিষ্ঠান এখন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত” — এমন সর্বজনীন ও তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করেনি। বরং এনবিআর (বোর্ড)-কে একটি এখতিয়ারমূলক ক্ষমতা (enabling power) দেওয়া হয়েছে — বোর্ড চাইলে পৃথক গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরবরাহের নির্দেশ দিতে পারবে।


তথ্য সরবরাহের তিনটি সম্ভাব্য পদ্ধতি

উপ-ধারা (২) অনুযায়ী, এই নির্দেশের আওতায় নিম্নলিখিত তিনটি পদ্ধতির যেকোনো একটি (বা একাধিক) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে —

•     (ক) — বোর্ডের নির্ধারিত সিস্টেমে সরাসরি ডেটা আপলোড করা;

•     (খ) — বোর্ডের ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক সিস্টেমের সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ডেটাবেসের এপিআই (API) সংযোগ বা ডেটা শেয়ারিং নিশ্চিত করা;

•     (গ) — ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক তথ্য সিস্টেমে প্রবেশাধিকার (access) প্রদান করা।

অর্থাৎ, API সংযোগ এখানে একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি মাত্র — একমাত্র বা সার্বজনীন পদ্ধতি নয়। কোন প্রতিষ্ঠানকে কোন পদ্ধতিতে তথ্য দিতে হবে, তা নির্ভর করবে বোর্ডের পরবর্তী নির্দিষ্ট গেজেট প্রজ্ঞাপনের ওপর।

করদাতাদের জন্য এর তাৎপর্য

এই ধারা কার্যকর হওয়ার অর্থ হলো, ভবিষ্যতে এনবিআর ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান-শ্রেণিকে (যেমন — ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রেজিস্ট্রেশন অফিস, বা যানবাহন নিবন্ধন সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ) পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দিতে পারবে — এবং সেই নির্দেশ কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে। এই কাঠামো তৈরি হওয়ার ফলে, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে আরও বেশি ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য এনবিআরের নাগালে আসার পথ প্রশস্ত হলো।

করদাতাদের জন্য বাস্তব পরামর্শ অপরিবর্তিত থাকছে — যেহেতু এই ধরনের তথ্য-আদান-প্রদানের সুযোগ আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো, তাই আয়কর রিটার্নে সম্পদ ও দায়ের বিবরণী প্রস্তুত করার সময় প্রতিটি তথ্য নির্ভুল ও সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

পর্যবেক্ষণ

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারা ২০০ক মূলত এনবিআরের হাতে একটি কাঠামোগত ও নমনীয় ক্ষমতা তুলে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রয়োগযোগ্য। এটি ইতিমধ্যে বলবৎ থাকা ধারা ২০১ (স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য প্রদান)-এর সাথেও সাযুজ্যপূর্ণ, এবং একসাথে দেখলে বোঝা যায় আয়কর আইনে তথ্য সংগ্রহের কাঠামো ক্রমান্বয়ে ম্যানুয়াল/নোটিশ-ভিত্তিক পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির দিকে সরে যাচ্ছে।

সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ৩০ জুন ২০২৬ — অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (আয়কর আইন, ২০২৩-এ নতুন ধারা ২০০ক সন্নিবেশ)