Public Gambling Act, 1867 রহিত করে প্রণীত "জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬" (২০২৬ সনের ৯৮ নং আইন) শুধু জুয়া-বেটিংয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নয় — পুরো আইনে অপরাধ দমনের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক, প্রযুক্তিগত ও বিচারিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আইনটি কার্যকর হয়েছে।
অপরাধ ও সাজার কাঠামো
আইনে পৃথকভাবে অপরাধ চিহ্নিত করা হয়েছে — জুয়া খেলা বা আয়োজন, জুয়ার স্থান নির্মাণ/রক্ষণাবেক্ষণ/পরিচালনা, অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, অনলাইন বেটিং, বুকমেকার হিসেবে কাজ করা, জুয়ার বিজ্ঞাপন-প্রচারণা-স্পনসরশিপ-অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা, ভিপিএন/প্রক্সি/মিরর সাইট/হোস্টিং/ডোমেইন সার্ভিস ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনায় সহায়তা, এবং সিম-ঘোস্ট সিম-এমএফএস অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার — প্রতিটির জন্য পৃথক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিটি অপরাধ আমলযোগ্য (Cognizable), জামিন-অযোগ্য (Non-Bailable) ও আপোষযোগ্য নয় (Non-Compoundable) বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থপাচারের সঙ্গে সংযোগ
জুয়া-সংক্রান্ত অর্থপাচারকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীনে পূর্বতন অপরাধ (Predicate Offence) হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে, যার ফলে জুয়ার সঙ্গে জড়িত অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে সেই আইনের কঠোর তদন্ত ও সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষমতাও প্রযোজ্য হবে।
সম্পত্তি জব্দ, ক্রোক ও ফ্রিজ
তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো অ্যাসেট, সার্ভার, ডোমেইন, সিম ও ডিভাইসসহ জুয়া-সংশ্লিষ্ট যেকোনো সম্পত্তি জব্দ বা ফ্রিজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পলাতক অপরাধীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণেরও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে আইনে।
প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থা
আইনে উল্লেখযোগ্যভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে —
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
আইনের আওতায় গঠন করা হয়েছে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স (Inter-Agency Task Force), যা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নের নির্দেশিকা প্রণয়ন, ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা তৈরি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার (ইন্টারপোলসহ) বিধানও রাখা হয়েছে অপরাধীদের সীমান্ত পার হয়ে পালানো ঠেকাতে।
বিচারের জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে, এবং তদন্তে Code of Criminal Procedure, 1898-এর প্রাসঙ্গিক বিধান প্রযোজ্য হবে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দিক
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এটি শুধু শাস্তির বিধান নয়, বরং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, তথ্য-সংযোগ ব্যবস্থা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়-কে আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে এনেছে। NID-SIM-MFS সংযুক্তকরণ এবং AI/DPI-ভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ দমনে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক কাঠামোতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ১ জুলাই ২০২৬ — "জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬" (২০২৬ সনের ৯৮ নং আইন) https://www.dpp.gov.bd/upload_file/gazettes/62172_71449.pdf